মেনু নির্বাচন করুন

জাওয়ার ইউনিয়নের প্রথ্যাত ব্যক্তিত্ব

রাহাত খান:

রাহাত খান  নামেই পরিচয়।তাড়াইল থানার জাওয়ারের এক সম্ভ্রান্ত মুসলীম পরিবারে ১৯৪০সালে১৯ডিসেম্বরে জন্ম গ্রহণ করেন,পিতার নাম_আলী এমদদা খান পাঠান ও মাতা_মোছা:রহিমা আক্তার ,জাওয়ার প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক পাঠ শেষ করে ময়মনসিংহ মৃত্যুঞ্জয় স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৫৫)ও আনন্দমোহন কলেজ থেকে আই,এ (১৯৫৭)ও বি,এ(১৯৫৯)পাশ করেন ।১৯৬১ সাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় ডিগ্রী নেন।তাছাড়া ১৯৭৬ সাল সাংবাদিকতায় পতিম বার্লিনের ইন্টারন্যাশনা্ল ইনস্টিটিউশন ফর জার্নালিজম থেকে ডিপ্লোমা নিয়েছেন। ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজ ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,ঢাকায় ও এমসি কলেজ সিলেট প্রায় ৮ বছর শিক্ষকতা করেছেন।রাহাত খানের পরিচিতি যেন লেখক হিসেবে ,তেমনি সাংবাবিদক হিসেবে বর্তমানে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কর্মরত এবং সুহ্নদ ছদ্মনামে নিয়মিত সম্পাদকীয় কলামে লিখে  পাঠক সমাজে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।তার প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহের মধ্যে রয়েছে গল্প:অনিশ্চিত লোকালয় (১৯৭২) অন্তহীন যাত্রা (১৯৭৫)ভালমন্দরে ঢাকা (১৯৮১)আপেল সংবাদ (১৯৮৩)উপন্যাস:অমল ধবল চাকরি (১৯৮২)এক প্রিয়দর্শিনী (১৯৮৩)ছায়াদম্পতি(১৯৮৪)হে শুন্যতা (১৯৮৪)সংঘর্ষ (১৯৮৪)হে অনন্তের পাখি (১৯৮৯),মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (১৯৯৯),শিশু সাহিত্য:দিলুর গল্প(১৯৬৭)হবুরাজা গন্মুন্ত্রী)১৯৮৯)হাজার রছর আগে (১৯৮২)হাসি কান্না চিকিৎসার(১৯৮৩)পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ছোট গল্পে বাঙ্গলা একাডেমী পুরস্কার ১৯৭৩,সুফী মোতাহার হুসেন পুরস্কার ১৯৭৯,মাহবুব উল্লাহ জেবুন্নেছা ট্রাস্ট পুরস্কার ১৯৭৮,আবুল মনসুর স্মৃতি পুরস্কার ১৯৮০,হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার ১৯৮২,সুহ্নদ সাহিত্য পুরস্কার ১৯৭৫,ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৮,চেতনা সাহিত্য ১৯৮৯।২১শে পদক ২০০৪।

 

হাসনা আরা হাই :

 

কজন নিবেদতি প্রাণ শিক্ষিকা হিসাবে মিসেস হাসনা আরা হাই কিশোরগঞ্জ  বহুল পরিচিত নাম।কিশোরগঞ্জ উচ্চ  বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে মিসেস দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত ছিলেন।২১জানুয়ারী ১৯৩৩সালে তিনি  জন্ম গ্রহণ করেন মাতুলালয়ে তাড়াইল থানার জাওয়ার গ্রামে মিয়া বাড়ীতে। অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যনয়রত থাকা অবস্থায় হাসনা আরা হাই  এর বিবাহিত জীবন শুরু হয়্।তার স্বামীর নাম ডা:আব্দুল হাই ।পরর্বতী কালে স্বীয় অধ্যরসায়ে গুরুদয়াল কলেজ থেকে বি,এ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  সাহিত্যে এম,এ ডিগ্রী নেন।১৯৬৬সাল দৈনিক আজাদ এহারমানি আজ শেষে নাম তার প্রথম লেখা ছোট গল্প প্রকাশিত হয়।তার প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থের নাম সূতি ও ফুলেশ্বরির দেশ তাড়াইল যা সাদেকুল হকের সাথে যৌথ ভাবে রচিত।

 

ইয়াকুব আলী(দু:খ):

 

জাওয়ার ইউনিয়নে দেওয়াটি গ্রামে এক দরিদ্র  পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।প্রথম জীবনে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ না হতেই লেখা পড়া ছেড়ে দিয়ে সংসারের  কাজে নিয়োজত হন।রাখাল মাঠে গরু চড়াতেন আর বাঁশের  বাঁশীর মোহনীয়সুরে কৃষাণের মাঠ মুখরিত তুলতেন ।কিশোর বয়সে দোতরা নিয়ে গান চর্চা শুরু করেন এবং বাউল সম্রাট জালাল খার সান্নিধ্য এসে বাউল হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন।শত অভাব অনটনের মধ্যে দিনতি পাত করেও তিনি হাজার হাজার শ্রোতাদের গান কৃপণতা করতেনা ।তার কন্ঠের সুরের লহরী আজও বাউল সংগীত মোদিদের কানে বাজে।তিনি ৬৩বছর ইন্তেকাল করেন।

 

মা্ওলানা: আব্দুল হামিদ বেলংকী:

 

জাওয়ার ইউনিয়নের বেলংকা গ্রামে এক সম্ভ্রন্ত মুসলীম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।পিতা ছিলেন তৎকালীন  একজন আলেম ।মাওলানা:আব্দুল হামিদ বেলংকী সাহেব শিক্ষা জীবনে শেষ করে পাকিস্তান মুসলীম লীগের যোগদান করেন।ঐসময়ে এ এলাকায় প্রতিভা ,প্রজ্ঞা,রাজনীতিবিদ,কবি,ওআলেম  হিসাবে তার সমকক্ষ কেহ ছিলনা।আরবী ,উর্দু,ফার্সীও ইংরেজী ভাষায় তিনি বক্তৃতা দিতেন ।পাকিস্তান আমলে সরকারী ভাবে কোন সেমিনার হলে আলেম হিসাবে তার ডাক পড়ত।১৯৬২সালে আয়ূবশাহীর আমলে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে ইসলামও বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষনামূলক সেমিনারে ইংরেজী ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে সুনাম অর্জন করেছিলেন।বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার আনাচে কানাচে এমন কোন ওয়াজ মাহফিল নাই যে তিনি অংশ গ্রহণ করেননি।ওয়াজ মাহফিলে তিনি বক্তৃতার মাঝে ছন্দ মিলিয়ে কবিতা পড়তেন।১৯৯৭সালে নিজ বাসভবন ইন্তেকাল করেন।

 

মাওলানা:হাবিবুর রহমান:

 

তিনি জাওয়ার ইউনিয়নের পূর্বজাওয়ার গ্রামের জন্ম গ্রহণ করেন।শিক্ষা জীবনে তিনি ভারতের দেওবন্দ থেকে দরসে হাদিছ শিক্ষা লাভ করে নিজ গ্রামে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাদান করেন।তাবলীগ জামাতের গুরু থেকে তিনি তাবলিগের সহিত জড়িত ছিলেন।তাড়াইল,করিমগঞ্জ,ইটনা,নান্দাইল থানার তাবলিগের মাখরাজ ছিল জাওয়ার বাজার মসজিদ ।মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই মাখরাজের আমীর ছিলেন।

 

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ(র:)

 

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইলের বেলংকার গ্রামে ৭মার্চ ১৯৫০সালে জন্ম গ্রহণ করেন।পিতা জনাব আব্দুল রশিদের কাছে বর্ণ পরিচয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে শেষ ধাপ দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পড়াশুনা করেন।বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর হাদিস শাস্ত্রের উচ্চতর ডিগ্রির জন্য উপমহাদেশের সর্ববৃহৎইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতে গমন এবং ১ম বিভাগে ১ম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।তিনি ১৯৭৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এ এডিটর পদে যোগদান করেন।প্রখর মেধা ও সৃষ্টিশীলতার দরুণঅতি অল্পদিনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক হিসাবে পদোন্নতি লাভ করেন।পরিচালক  হিসাব দায়িত্ব পালনকালে পর্যায়্ক্রমে তিনি পরিচালক ,অনুবাদ ওসংকলন ,পরিচালক প্রকাশনাও গবেষণা ,পরিচালক ইমামে প্রশিক্ষণ একাডেমী সহ পরিচালক ,খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের  দায়িত্ব পালন করেন।ইসলামের উদার মানবিক ও শান্তিবাদী বিষয়ের উপর আয়োজিত সেমিনার সিস্পোজিয়ামে অংশ গ্রহণের জন্য সৌদি আরব ,ইন্ডিয়া,ইউ,কে,এবংইউ,এস,এ সফর করেন।ইসলামের সমাজ নীতি ও অর্থনীতি উপর প্রায় আশিটির মতো রচনা ও অনুদিত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।ইসলামিক ফাইন্ডেশন এবংবৃহৎ প্রকল্প ইসলামী বিশ্বকোষ সম্পাদনা সহ সীরাত সংকলন,আল কুর আনুল কারীম তরজমা ওসম্পদনার তাফসীর,তাজরীদুস সিহাহ অনুবাদ ও সম্পাদনা ছাড়াও সরকারী প্রাথমিক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে টেক্সট বুক বোর্ড কর্তৃক রচিত বই সমূহের রচনা ও সম্পাদনার কাজে অংশ গ্রহণ করেছেন।১৯৮৭সালে থেক মাসিক পাথেয় নামে একটি মাসিক পত্রিকা তার সম্পাদনায় নিয়মিত বের হচ্ছে সরকারী চাকরী থেকে অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় সেবামূলক কর্মকান্ডে ব্যস্ত জীবন যাপন করেছেন।ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে আর্থ সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি যুগোপযোগী ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ও বিকাশের  লক্ষ্যে ইকরা বাংলাদেশ নামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ইকরার প্রায় ১৫টি শাখা পরিচালিত হচ্ছে ।ক্ষুদ্র  ঋণ ও স্বনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সুহ্নদ বাংলা নামে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহ,হসপিটাল,মাদানী ফাউন্ডেশন ,ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতি ,আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ ফাউন্ডেশন ইত্যাদি সংস্থা সমূহের নির্বাহী দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।বর্তমানে ঐতিহাসিক শুলাকিয়া ঈদ গাহের  ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

ড:সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন:

 

১৯৩৪সনে জাওয়ার পীর বংশে সৈয়দ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিদ্যায় পিএইচডি,ডি,এস ,সি ডিগ্রী লাভ করেন।পরবর্তীতে তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিইচ ডি ডিগ্রীলাভ করেন।কর্মজীবনে তিনি পদার্থ বিদ্যায একজন দক্ষ বিশারদ হিসাবে বিশ্ব আনভিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন।বর্তমানে তিনি অরসর জীবন যাপন করছেন।

 

বিচার পতি আ:মতিন চৌধুরী:

 

বিচার পতি আ:মতিন চৌধুরীজাওয়ার গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত  পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।তিনি এম,এ ,এল,এল,বি পাশ করার পর ময়মনসিংহ জজ কোর্টে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন ।পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা  হাই কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন এবং সহকারী এ্টর্নী জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।১৯৬৬সালে তিনি ঢাকা হাই কোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন।বর্তমান তিনি অবসর জীবন যাপন করছেন।